• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

ব্যাপকভিত্তিক ও মানসম্মত অনুবাদ জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

435ঢাকা: মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গন্থমেলা’র শুভো উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকেলে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৬ উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর তিনি মেলা পরিদর্শন করেন। এরপর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় বইমেলার দুয়ার।

এবার অনেক বড় পরিসরেই শুরু হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বেড়েছে বইমেলার পরিধি। বাংলা একাডেমির উল্টো দিকের উদ্যানের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে তৈরি করা হয়েছে ৪৮ ফুটের অতিরিক্ত নতুন প্রবেশ পথ। যার সঙ্গে বাংলা একাডেমি অংশের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।

শীতের বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই বইপ্রেমীদের আগমনে সরব হয়ে উঠেছে গ্রন্থমেলা।

মেলার প্রথম দিনেই গ্রন্থানুরাগীর ব্যাপক সমাগম না হলেও চোখে পড়ার মতো পাঠকের দেখা ঠিকই মিলেছে। মেলার দুই ভেন্যু বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মনের আনন্দে ঘুরছেন এসব পাঠক।

তাই বলা যায়, লেখক-প্রকাশক ও আয়োজক সবার মানসিক সংযোগ ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করলো মাসব্যাপী একুশের বইমেলা।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সাহিত্যের ধ্রুপদী ও স্বনির্বাচিত সাহিত্য সম্ভার বিশ্ব পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আরো ব্যাপকভিত্তিক ও মানসম্মত অনুবাদ অতীব জরুরি।

বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রন্থ এবং সাহিত্য যেমন অন্যভাষায় অনুবাদ হবে তেমনি অন্যভাষার সাহিত্যও বাংলা ভাষায় অনুবাদ হলে আমরা সেদেশের ভাষা-সাহিত্য সম্পর্কে জানতে পারব।

ফ্রাংকফুটের বই মেলার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার ফ্রাংকফুটের বইমেলার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ঘটেছে।

ভবিষ্যতে এধরনের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাভাষাকে তুলে ধরার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান শীঘ্রই মীর মোশারফ হোসেনের ’বিষাদ সিন্ধু’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশিত হবে।

এসময় তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, মুক্ত হয়ে, মুক্ত মনে বইমেলায় ঘুরে বেড়ানোর প্রত্যাশায় রয়েছি। এই বাংলা একাডেমিতে অনেক সময় কেটেছে আমার। এটি আমার প্রিয় জায়গা।

বাংলা একাডেমিতে অনেক সময় কেটেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করেন যে, তার প্রয়াত বন্ধু বেবী মওদুদকে নিয়ে এখানকার লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে আসতে আমার খুব ভালো লাগে। তবে অনেক নিয়মে বন্দি থাকতে হয় এখন। সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আবার কবে বইমেলায় আগের মতো ঘুরে বেড়াতে পারবো! মুক্ত হয়ে বইমেলায় ঘুরে বেড়ানোর প্রত্যাশায় থাকলাম।

তিনি আরো বলেন, সারা বছরই এখন অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বসে থাকি বইমেলা কখন আসবে। ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রেরণা দেয়। প্রতিবাদের ভাষা শেখায় এই মাস। বিজয়ের পথ দেখায় এই মাস

এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন- সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ,চেক প্রজাতন্ত্রের লেখক-গবেষক রিবেক মার্টিন, ব্রিটিশ কবি এবং জীবনানন্দ অনুবাদক জো উইনটার,অন্য প্রকাশের স্বত্তাধিকারী মাজহারুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থার সভাপতি (আইপিএ) রিচার্ড ডেনিশ পল সারকিন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। মোট ১০টি বিষয়ে ১১ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন- কবিতায় আলতাফ হোসেন, কথা সাহিত্যে শাহীন আক্তার, স্মৃতিকথায় ফারুক চৌধুরী, প্রবন্ধে আবুল মোমেন ও আতিউর রহমান, গবেষণায় মনিরুজ্জামান, অনুবাদে আব্দুস সেলিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যে তাজুল মাহমুদ, নাটকে মাসুম রেজা, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও পরিবেশে শরিফ খান এবং শিশু সাহিত্যে সুজন বড়ুয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ